ইচ্ছা পোষণ করলেই আপনি লিখতে পারবেন

[ লিখেছেন: বাহাউদ্দিন ফয়জী ]


আমরা সকলেই চাই কোনো পত্রিকা, ম্যাগাজিন, জার্নাল বা কোনো অনলাইন প্রকাশনায় আমাদের লিখা প্রকাশিত অবস্থায় দেখতে।

কিন্তু এই ইচ্ছা অনেকেরই অপূর্ণ থেকে যায়।

কারণ, লিখা ছাপানোর আগে তো একটি লিখা লেখা প্রয়োজন। আর আমরা তো সেটা করতেই ভয় পাই।

আমাদের অনেকেরই ধারণা যে, আমরা হয়তো ভালো লেখতে পারবো না। যাদের লিখা প্রতিনিয়তই প্রকাশিত হচ্ছে, তারা হয়তোবা আমাদের থেকে অনেক ভালো লেখে।

আমাদের এই ধারণাটি একেবারেই ভুল।

আপনার লিখা কোনো প্রকাশনায় ছাপানোর জন্যে আপনাকে পণ্ডিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার লিখা প্রকাশের জন্যে শুধুমাত্র দরকার তিনটি বিষয় – (i) ইচ্ছা, (ii) লেখা এবং (iii) সঠিক জায়গায় তা প্রকাশের উদ্দেশ্যে পাঠানো।

ইচ্ছা পোষণ করা যে, আপনি লিখবেন।

তারপর, মাথায় যা কিছুই আসে তা লেখে ফেলা (এবং কয়েকবার তা পড়া অর্থাৎ রিভিশন দেওয়া)।

সবশেষে, লিখাটি কোনো পত্রিকা, ম্যাগাজিন, জার্নাল বা কোনো অনলাইন প্রকাশনাকে পাঠিয়ে দেওয়া।

জি…! কেবলমাত্র এই ছোট তিনটি ধাপ। তারপর লিখাটি ছাপানো হলেই আপনি একজন প্রকাশিত লেখক।

হয়তোবা ভাবছেন, লেখা শুরু করার দ্বিতীয় ধাপটিই তো সবচাইতে কঠিন কাজ।

ভুল।

লেখা শুরু করা যে কঠিন কাজ – এই ধারনাটিই তো ভুল।

এটি মোটেও কঠিন কাজ নয়। বরং পৃথিবীর সহজ কাজগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

আপনি তো আর কোনো পরীক্ষা দিচ্ছেন না। আপনি তো শুধুমাত্র আপনার মনে যা কিছু আছে সেটাই লিখা আকারে প্রকাশ করছেন। আপনার ভাবনাগুলোকে লিখিত রূপ দিচ্ছেন।

আর আপনার লেখার সময় অন্য কেউ তো লিখাটি পড়ছে না যে আপনাকে সমালোচনার ভয় পেতে হবে।

তাই লিখাটির মান কেমন, লেখা শুরুর আগেই সেটা না ভেবে লেখা শুরু করুন।

প্রথমে আপনার সামনে একটি কাগজ নিন। সাথে তো অবশ্যই একটি কলম নিবেন। তারপর ভাবুন

* কোনো একটি বিষয় যেটি সম্পর্কে আপনি অন্যদের জানাতে চাচ্ছেন। অথবা,

* কোনো বিষয় যেটির বিষয়ে আপনি সচরাচর অন্যদের সাথে আলাপ করেন। অথবা,

* এমন কোনো বিষয় যা আজকাল আপনার চারপাশে বেশ চর্চায় আছে।

ধরে নেই, আপনি আপনার পেশা সম্পর্কে অন্যদের সাথে সচরাচর আলোচনা করেন। এটি সম্পর্কে আপনি এখন অন্যদের জানাতে চান।

ব্যস। হলোই তো। আপনার লিখার বিষয়/টপিক তো পেয়েই গেলেন।

তাহলে এই বিষয়টি নিয়ে লেখা শুরু করে দিন।

শুরুতে এই টপিকটি নিয়ে কয়েকটি পয়েন্ট লেখে ফেলুন। যেমন –

• আপনি কেন আপনার বর্তমান পেশাটি বেছে নিয়েছেন?

• এই পেশার উদ্দেশ্যে আপনার যাত্রা (যেমন – এর পেছনে আপনার পড়াশোনা শুরু থেকে শেষ, ইত্যাদি)

• আপনি কি এই পেশাটি উপভোগ করছেন? যদি করে থাকেন, তাহলে কেন করছেন? যদি না করে থাকেন, তাহলে কেন উপভোগ করছেন না?

• এই পেশায় সাম্প্রতিক সময়ে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?

• (সবশেষে) এই পেশায় (i) যারা নতুন এবং (ii) যারা এই পেশায় আসার জন্যে পড়াশোনা করতে চায় – তাদের আপনি কি পরামর্শ দিবেন?

• ইত্যাদি (যদি আরও পয়েন্ট থাকে)।

এবার প্রত্যেকটি পয়েন্টের ব্যাপারে ছোট ছোট তিন-চারটি করে লাইন লেখে ফেলুন। মনে যাই আসুক না কেন, লেখে ফেলুন। কি লেখবেন তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে যাবেন না। মনের খুশি মতো লেখুন।

এবার পুরো লিখা শেষ হলে একবার লিখাটি আবার পড়ুন।

পড়া শেষে ছোট একটি উপসংহার লেখে ফেলুন।

ব্যস। হয়ে গেলো আপনার নিজের একটি ছোট লিখা।

এবার কয়েকবার লিখাটি পড়ুন। যদি কোনো লাইন পাল্টাতে চান, তাহলে তা করুন। আরও কিছু সংযোজন করতে চাইলে, তাও করতে পারেন।

সবশেষে কোনো প্রিন্ট বা অনলাইন প্রকাশনাকে আপনার লিখাটি টাইপ করার পর ইমেইল-এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন।

কয়েকদিন অপেক্ষা করুন। প্রতিদিন ঐ প্রিন্ট বা অনলাইন প্রকাশনার ওয়েবসাইটে ঢুকুন এবং দেখুন আপনার লিখাটি প্রকাশিত হলো কিনা।

প্রকাশনাটি আপনাকে কোনো কারণে ছাপানোর/প্রকাশের ব্যাপারে ইমেইল-এর মাধ্যমে (বা ক্ষেত্র বিশেষে সামাজিক-মাধ্যমে/সোশাল-মিডিয়াতে) যোগাযোগ করতে পারে। তাই আপনার ইমেইল (এবং সামাজিক-মাধ্যম/সোশাল-মিডিয়া) প্রতিদিন চেক করুন।


Hits: 389

বাহাউদ্দিন ফয়জী

বাহাউদ্দিন ফয়জী অবসর সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে লেখেন। দৈনন্দিন জীবনের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে তার মতামত, প্রবন্ধ ও পোস্ট প্রকাশিত হয়ে থাকে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়াদি সম্পর্কেও কলাম লেখেন। তার বিশ্লেষণ প্রায়ই এশিয়া টাইম্‌স-এ প্রকাশিত হয়। বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা "দি ডিপলোমেট"-এও তার বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.