যানজটের কারণে কেন আমরা এখনও অসহায়?

[ লিখেছেন: আমানুল হক চিশ্তী অনুপ (আমান) ]


গত দেড় দশকে বাংলাদেশের অবকাঠামোর যুগান্তকারী উন্নতি হয়েছে। অপার সম্ভাবনার এই দেশে অবকাঠামোর উন্নতির বিশেষ প্রয়োজন ছিল। তবে, এখনও অনেক পথ পাড়ি দেয়ার বাকি।

সম্প্রতিকালের অবকাঠামোগত এই উন্নতি অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান। ফ্লাইওভার, ব্রিজ, প্রশস্ত রাস্তাঘাট ইত্যাদি এই অবকাঠামোগত উন্নতির মূল উদাহরণ।

সবচাইতে নজরকরা অবকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে। এই দুই শহরের যানজটের কারণে বছরের পর বছর নগরবাসী যে অসস্থিকর অবস্থায় বসবাস করে আসছে, সেই অবস্থার উন্নতিই ছিল অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তবে, যানজটের সম্পূর্ণ সমাধান করতে আরও সময়ের প্রয়োজন। যদিও সম্প্রতিকালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে অবস্থা আরও খারাপেরের দিকে যেতে পারে নি।

যদি এই উন্নয়ন করা না হতো, তাহলে অবস্থা আরও খারাপের দিকে এগোতে পারতো। কারণ, এই দুটি শহরে যেভাবে বসবাসকারী ও যানবাহন বেড়েছে, সেই তুলনায় এই শহরগুলোর আয়তন তো আর সেই ভাবে বাড়ানো সম্ভব নয়।

বাড়ন্ত যানজটের সাথে জনসংখ্যার ও যানবাহনের বৃদ্ধি ওতপ্রোতভাবে জড়িত

বাংলাদেশে গড় প্রজননের হার তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় এমনিতেই বেশি। যেহেতু দেশের সবচাইতে বেশি জনগণের বসবাস আমাদের এই ঢাকা শহরে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এই শহরে প্রজননের কারণেই প্রধানত নগরবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তদুপরি রয়েছে দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে ঝাকে ঝাকে মানুষের ঢাকা শহরে পাড়ি দেয়ার প্রবণতা। যেহেতু দেশের মূল কেন্দ্র আমাদের এই ঢাকা শহর, সেহেতু এই শহরকেই জনগণ মনে করে সার্বিক উন্নয়নের ও ব্যক্তিগত উন্নতির জন্যে সহায়ক আবাসস্থল ও কর্মস্থল।

দেশের খ্যাতনামা স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মেডিকেল-হাসপাতাল সব তো এই শহরেই অবস্থিত। তাছাড়া, দেশের সিংহভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সদর দপ্তর ঢাকা শহরেই অবস্থিত।

তদুপরি, দেশব্যাপী সকল মন্ত্রনালয়ের দপ্তর থাকলেও, দেশের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসীদের বিভিন্ন কাজের জন্যে ঢাকা শহরে অবস্থিত মন্ত্রনালয়ের মূল দপ্তরেই যোগাযোগ করতে হয়।

তাছাড়া, যেসব কাজে প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একক ব্যক্তির সাহায্যের প্রয়োজন হয়, সেসব অনেক ক্ষেত্রেই এই সাহায্য সন্ধানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই রাজধানী ঢাকাতেই আসতে হয়।

কেননা, ঐসব পেশাদার সাহায্যকারী/ পারদর্শী ব্যক্তিরা (বিশেষজ্ঞ, কনসালটেন্ট, ইত্যাদি) তাদের হাতের নাগালে বড় একটি ক্লায়েন্ট গোষ্ঠীকে একসাথে একই এলাকায় পেতে এই শহরে বসবাস করে আসছে বা প্রতিনিয়তই এই শহরে পাড়ি জমাচ্ছে।

ঢাকা শহরে বসবাসকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই শহরে ভয়াবহভাবে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যাও।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে যানবাহনের বৃদ্ধি ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। কেননা, শহরের বাড়ন্ত জনসংখ্যাই এই যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

প্রতিনিয়তই নতুন নতুন যানবাহন নামছে আমাদের এই নগরীতে।

বাড়ন্ত এই জনসংখ্যার পাশাপাশি যানবাহনের বৃদ্ধি আমাদের এই প্রিয় শহরের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে করে তুলছে দুর্বিষহ।

বাড়ন্ত প্রাইভেট গাড়ি

আর যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মানুষের আর্থিক উন্নতি যার ফলে তারা ব্যক্তিগত যানবাহন বা প্রাইভেট গাড়ি মাত্রাতিরিক্তভাবে কেনা ও ব্যবহার করা শুরু করেছে। অনেক পরিবারে জনপ্রতি রয়েছে এক বা একাধিক প্রাইভেট গাড়ি।

এই প্রাইভেট গাড়িগুলো বেশিরভাগ সময়ই এক বা দু’জন যাত্রিকে বহন করছে, যেখানে একটি পাবলিক যানবাহন (যেমন বাস) ৩০ থেকে ৫০ জনকে বহন করতে পারে, এবং করছে।

এই সমীকরণে, প্রাইভেট গাড়িগুলো এক না দু’জনের তুলনায় আমাদের ঢাকা শহরের রাস্তার অনেক বেশি জায়গা অপচয় করছে। এই বিষয়টি অবশ্যই শহরের যানজটে প্রভাব ফেলছে। এই প্রভাব নেতিবাচক (নেগেটিভ)।

অতএব…

নতুন নতুন প্রশস্ত রাস্তা, ফ্লাইওভার, ইত্যাদি অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরেও যানজট তুলনামূলকভাবে কম কমছে।


Hits: 326

আমানুল হক চিশ্তী অনুপ (আমান)

আমানুল হক চিশ্তী অনুপ (আমান) ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জনের পর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজি'র উপর মাস্টার্স এবং আন্তর্জাতিক-সম্পর্ক'র উপর পিজিডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.