বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম, উচ্চ শিক্ষা, দেশে থেকেই বিদেশি ডিগ্রি, ইত্যাদি

[ লিখেছেন: এম এম হাসান তুষার ]


বাংলাদেশে বাংলা এবং ইংরেজি এই দুটি মাধ্যমে সকল শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা বা ইংরেজির মধ্যে যেকোনোটিকে বেছে নিতে পারে।

বাংলা মাধ্যম

বাংলা মাধ্যমে শিক্ষার তিনটি স্তর রয়েছে। স্কুলের ১ম শ্রেণী থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ধরা হয় প্রাথমিক স্তর, যা ৬ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর ৭ বছর মেয়াদী হয়। এই ৭ বছরের মধ্যে ৩ বছর জুনিয়র, ২ বছর মাধ্যমিক ও ২ বছর উচ্চ-মাধ্যমিক হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

সরকারি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় দ্বারা এ শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে।

এই স্তরগুলোতে রয়েছে তিনটি সার্টিফিকেট পরীক্ষা: ১) জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা, ২) মাধ্যমিক/সেকেন্ডারী স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), এবং ৩) উচ্চ-মাধ্যমিক/হায়ার-সেকেন্ডারী স্কুল সার্টিফিকেট।

এই স্তরগুলোতে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই উন্নয়ন, অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’।

ইংরেজি মাধ্যম

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল রয়েছে যারা বিদেশি শিক্ষা বোর্ডের (এড’এক্সেল বা ক্যামব্রিজ) দ্বারা প্রণীত সিলেবাসের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এসব বিদেশি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও’লেভেল এবং এ’লেভেল ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।

উচ্চ শিক্ষা

এই সকল স্তর বা ধাপ উত্তীর্ণ হবার পর একজন শিক্ষার্থী চাইলে উচ্চ-শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থার অতুলনীয় উন্নতি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার জন্য একজন শিক্ষার্থীর সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর সময় ব্যয় করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ৪ বছর মেয়াদের স্নাতক ও ১ বছর মেয়াদের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়ে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এইসব উচ্চ-শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে দেশে সরকার পরিচালিত ৩৭ টি স্বায়ত্ত-শাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর পাশাপাশি ৯০ টিরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তাছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন ( সংক্ষেপে ইউজিসি নামে পরিচিত) এর অধীনে থাকা কলেজগুলোতেও এই উচ্চ-শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশে থেকেই বিদেশি ডিগ্রি অর্জন সম্ভব

বিদেশে না গিয়ে এবং বাংলাদেশে অবস্থান করেই এখন সরাসরি বিদেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।

এর একটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন (লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়)-এর রেজিস্টার্ড কেন্দ্রগুলো থেকে ছাত্ররা বাংলাদেশে অবস্থান করেই লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের এল.এল.বি (সম্মাননা) ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।

অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা এ সকল রেজিস্টার্ড কেন্দ্র বা প্রতিষ্টানগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।


Hits: 169

এম এম হাসান তুষার

এম এম হাসান তুষার আইন পেশায় জড়িত থাকার পাশাপাশি নিজেকে বিভিন্ন গবেষণায় নিয়োজিত রাখেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে এলএল.বি ডিগ্রি এবং নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি (বাংলাদেশ) থেকে এলএল.এম ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

Leave a Reply